একটি বাড়ির প্রতিটি দেয়াল হয়ে ওঠে ভালোবাসার নীরব সাক্ষী এবং জীবনের নানা গল্পের পটভূমি। তাই বাড়ির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দেয়ালের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাড়ির বাইরের দেয়াল বা এক্সটেরিয়র পেইন্টের ক্ষেত্রে জলবায়ু ও আবহাওয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আমাদের দেশের মতো গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে রোদের তাপ ও বৃষ্টির আর্দ্রতা থেকে দেয়ালকে সুরক্ষিত রাখতে সাদা বা চাপা সাদার মতো হালকা রং সবচেয়ে উপযোগী। এ ধরনের রং রোদকে প্রতিফলিত করে বাড়িকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি সেমি-ম্যাট ফিনিশিংয়ের ওয়েদারপ্রুফ রং ব্যবহার করলে দেয়াল দীর্ঘকাল পরিষ্কার থাকে এবং ধুলাবালি কম বোঝা যায়।
বারান্দা বা জানালার গ্রিলে দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাদা বা কালো রং ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র পেইন্টের ক্ষেত্রে একেক ঘরের উপযোগিতা অনুযায়ী রং বেছে নেওয়া উচিত। বসার ঘর, খাবার ঘর বা করিডোরের মতো সাধারণ জায়গাগুলোতে চাপা সাদা, হালকা বাদামি, বেইজ বা হালকা ধূসর রঙের মতো নিরপেক্ষ শেডগুলো আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।
তবে ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে যেকোনো একটি দেয়ালে উজ্জ্বল নীল, ফিরোজা রঙের ব্যবহারে বৈচিত্র্য আনা যায়। আবার দেশজ ধারার অন্দরসজ্জায় অনেকে টেরাকোটা বা মেটে রঙের মৃদু শেড পছন্দ করেন, যা দেয়ালে এক ধরনের শৈল্পিক ও ত্রিমাত্রিক আবহ তৈরি করে।
শোবার ঘর বা ব্যক্তিগত পরিসরে প্রশান্তি বজায় রাখতে নীল বা সবুজের কোমল শেড, ল্যাভেন্ডার কিংবা জলপাই রঙের হালকা আভা ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুদের ঘরে তাদের পছন্দ অনুযায়ী গোলাপি, বেগুনি বা মিন্ট রঙের মৃদু শেড দারুণ মানায়।
অন্যদিকে রান্নাঘরের দেয়াল যেহেতু দ্রুত তেল-চিটচিটে হয়, তাই সেখানে গ্লসি বা চকচকে ফিনিশিংয়ের রং ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
দেয়ালে পছন্দের রংটি আসলে কেমন দেখাবে, তা নিশ্চিত হতে বর্তমানে আধুনিক ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’ বা ‘ওয়ান-স্টপ পেইন্টিং সলিউশন’-এর সহায়তা নেওয়া সম্ভব। অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের জন্য দক্ষ পরামর্শক দল এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।
এতে দেয়াল পরিমাপ থেকে শুরু করে খরচের হিসাব এবং ঝক্কিমুক্ত উপায়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রঙের কাজ সম্পন্ন করা সহজ হয়।
বর্তমানে বাজারে সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন ‘ইজি ক্লিন’ রং, স্ক্র্যাচপ্রুফ ও ডাস্টপ্রুফ রঙের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে দুর্গন্ধহীন ও বাতাস বিশুদ্ধ রাখার উপযোগী রং যেমন ‘ব্রেদ ইজি’ ঘরোয়া পরিবেশকে রাখে স্বাভাবিক। এমনকি দেয়ালের আভিজাত্য বাড়াতে সিল্ক ফিনিশিং বা জামদানি মোটিফের মতো আধুনিক ‘ইলিউশন ডিজাইন’ এখন দেয়ালের চলতি ধারায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এএইচ





